পাবলিক পরীক্ষায় কঠোর হচ্ছে মন্ত্রণালয়, নকল রোধে থাকছে সিসি ক্যামেরা ও বিশেষ অভিযান

ঢাকা, ২৮ মার্চ – আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে নকল এবং প্রশ্ন ফাঁস রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নজরদারি বাড়াতে পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো কেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আগের মতো আকস্মিক পরিদর্শন বা হেলিকপ্টার মিশন পরিচালনা করা হবে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালেও তিনি এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে নকল নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর তিনি পূর্ণ শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় পরীক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে শিক্ষামন্ত্রী প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডে ব্যক্তিগতভাবে যাওয়ার পাশাপাশি বোর্ড চেয়ারম্যানদের কেন্দ্র পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অতি প্রয়োজনীয় ছাড়া কোনো ভেন্যু কেন্দ্র থাকছে না বলে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীরা খাতায় যা লিখবে তার ভিত্তিতেই নম্বর পাবে, কোনো প্রকার গ্রেস মার্ক বা অতিরিক্ত অনুকম্পা দেখানো হবে না।
এছাড়া এইচএসসি পরীক্ষা থেকে দেশের সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচাতে প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাবলিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা কমানোর বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীর পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে এ বছর ২৯২টি ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। কেবল নিকলি ও অষ্টগ্রামে বিকল্প না থাকায় দুটি কেন্দ্র রাখা হয়েছে। প্রশ্নপত্র সুরক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নকল রোধে এবার বিশেষ নজরদারি ও গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এস এম/ ২৮ মার্চ ২০২৬









