মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে, দাবি ইরানের

তেহরান, ২৭ মার্চ – পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক কাঠামো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ইরান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। জেনারেল শেকারচি দাবি করেন, মার্কিন সেনাবাহিনী বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে সাধারণ নাগরিকদের ব্যবহৃত হোটেলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। বেসামরিক স্থাপনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতাকে মার্কিন বাহিনীর চরম পরাজয় এবং আত্মরক্ষায় অক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই ইরানি জেনারেল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অত্যাধুনিক এফ পঁয়ত্রিশ যুদ্ধবিমানগুলোও আর নিরাপদ নয়। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, যে দেশই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাবে তাকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তেহরান শান্ত হবে না।

গত জুনের যুদ্ধের পর ইরান তাদের সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এখন তারা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। শেকারচি জানান, নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনির দেওয়া চার দফা শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা মার্কিন বাহিনীকে রেহাই দেবেন না। সাক্ষাৎকারে জেনারেল শেকারচি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

তিনি দাবি করেন, চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ৬০০ থেকে ৮০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার সেনা আহত হয়েছে। এছাড়া ইরানি হামলায় এক হাজার ৩২১ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও তিনি প্রদান করেন। তার মতে ইসরায়েল এই সংখ্যাটি গোপন করার চেষ্টা করছে। শেকারচি মুসলিম দেশগুলোকে মার্কিন বাহিনীকে কোনো প্রকার আশ্রয় প্রদান না করার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে কোনো দেশের ভূমি বা আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে সেই দেশকেও চরম পরিণাম ভোগ করতে হবে। মার্কিন ও ইসরায়েলি শক্তির ওপর ক্রমাগত আঘাত এবং ন্যাটোর অনীহা সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের দিন ফুরিয়ে এসেছে বলেই ইরান মনে করছে।

এস এম/ ২৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language