জাহাজ সংকটে জার্মানির দ্বারস্থ ব্রিটেন, ট্রাম্পের তীব্র বিদ্রূপ

লন্ডন, ২৭ মার্চ – একসময় সমুদ্র শাসন করা ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি বর্তমানে তীব্র যুদ্ধজাহাজ সংকটের মুখে পড়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে তারা জার্মানির কাছ থেকে জাহাজ ধার করতে বাধ্য হয়েছে। ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতার এমন নজিরবিহীন টানাপোড়েন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র বিদ্রূপ করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরিগুলোকে মার্কিন জাহাজের তুলনায় খেলনা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান ব্রিটেনের এই জাহাজগুলো মোটেও সেরা মানের নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশালাকায় রণতরিগুলোর সামনে এগুলো নেহাতই তুচ্ছ।
মূলত উত্তর আটলান্টিকে ন্যাটোর একটি মিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ড্রাগনের। কিন্তু ইরান সংকটের কারণে জাহাজটিকে জরুরি ভিত্তিতে সাইপ্রাসে মোতায়েন করা হয়। ফলে ন্যাটোর ওই মিশনের জন্য ব্রিটেনের হাতে আর কোনো উদ্বৃত্ত জাহাজ ছিল না। বাধ্য হয়ে ব্রিটিশ নৌবাহিনীকে এখন জার্মান ফ্রিগেট এফজিএস সাচসেন ধার করে সেটির ওপর থেকে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে ব্রিটেনের জন্য গভীর অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ১০২ বছর বয়সী প্রবীণ রয়্যাল মেরিন যোদ্ধা ডাগ চেশায়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন উইনস্টন চার্চিল বেঁচে থাকলে এই অবস্থার জন্য পুরো প্রশাসনকে বরখাস্ত করতেন। জার্মানির কাছ থেকে জাহাজ ধার করার ঘটনাকে তিনি চরম লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতে অন্তত ছয় বছর সময় লাগে। ন্যাটোর সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা গেছে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির দুই দশমিক চার শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও তা কমে দুই দশমিক আঠাশ শতাংশে নেমে এসেছে।
সাবেক নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল লর্ড ওয়েস্ট সতর্ক করে বলেছেন মিত্র দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে যে ব্রিটেন আর আগের মতো শক্তিশালী নেই। কয়েক সপ্তাহ আগে সাইপ্রাসে ইরানি ড্রোন হামলার সময়ও কোনো ব্রিটিশ জাহাজ সেখানে পাহারায় ছিল না। যার ফলে তাদের ফ্রান্স ও ইতালির সাহায্য নিতে হয়েছিল। সব মিলিয়ে সমুদ্র শাসনের সেই গৌরবময় ব্রিটিশ অধ্যায় এখন বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।
এস এম/ ২৭ মার্চ ২০২৬









