ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা আবারও পেছালেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ২৭ মার্চ – ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার আবহে দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আরও একবার স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী এই হামলার সম্ভাব্য সময় আরও ১০ দিন পিছিয়ে আগামী ৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের সময়সীমা পিছিয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।
তবে ইরান এ ধরনের কোনো আলোচনার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর তীব্র চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি বর্তমানে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ফলপ্রসূ আলোচনার কথা বলে প্রথমে ৫ দিন এবং এবার দ্বিতীয় দফায় সময়সীমা বাড়ানো হলো।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই পদক্ষেপকে যুদ্ধাপরাধের হুমকির সমতুল্য বলে আখ্যায়িত করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা না থাকলে বেসামরিক অবকাঠামো বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানো জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে বর্তমান এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এরপর থেকে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান যুদ্ধ থামানোর জন্য মরিয়া হয়ে চুক্তির আবেদন করছে। কিন্তু তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে।
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো ধরনের হামলা হলে পুরো অঞ্চল জুড়ে ব্যাপক মাত্রায় আক্রমণ চালানো হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। সামরিক হুমকি এবং আলোচনার দাবির এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ইরানে স্থল অভিযানের সম্ভাবনার কথাও আলোচিত হচ্ছে যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। চলমান এই সংঘাতে ইতিমধ্যে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এনএন/ ২৭ মার্চ ২০২৬









