রাজবাড়ী

দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: ৫ সেকেন্ডের জন্য প্রাণে বাঁচলেন খোকসার খাইরুল

রাজবাড়ী, ২৬ মার্চ – রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছেন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার যুবক খাইরুল ইসলাম খাঁ। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই যুবক জানিয়েছেন তার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা। খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে খাইরুল জানান, নিজের জীবন বাঁচাতে তিনি মাত্র পাঁচ সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন। বাসটি ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ ঝাঁকুনিতে তিনি দরজা দিয়ে নদীতে পড়ে যান এবং সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

তীরে ওঠার পর এক উদ্ধারকারী তার মুঠোফোনটি নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। খাইরুলের দেওয়া তথ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় বাসচালক নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পরে ওই চালক আরমান শেখের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে বাসের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। বুধবার দুপুরে কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহাদ্য পরিবহনের একটি বাস খোকসা বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে। খাইরুল জানান, বাসে নারী ও শিশুসহ প্রচুর যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেলে অন্তত ৪০ জন ভেতরে আটকা পড়েন।

খোকসা বাস কাউন্টারের মাস্টার রাকিব বিশ্বাস জানান, চালককে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলেও ঘটনার সময় চালক নিজের আসনেই ছিলেন এবং তার লাশও উদ্ধার হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার জানান, বাসটি কুমারখালী থেকে চলাচল করত। এই ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মর্জিনা খাতুন, রাজীব বিশ্বাস, তিন বছরের শিশু ইস্রাফিল এবং আয়েশা সিদ্দিকার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুরো এলাকায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।

এস এম/ ২৬ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language