জাতীয়

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশজুড়ে মুক্তিযোদ্ধা নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ

রংপুর, ২৬ মার্চ – রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দেশজুড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানকে একটি সুপরিকল্পিত নকশা বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিসেট বাটন চাপার কথা বলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার বিষয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনাও দেশবাসীকে হতবাক করে।

সাম্প্রতিক এক গণমাধ্যম অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সারা দেশে বেছে বেছে মুক্তিযোদ্ধা নির্যাতনের অন্তত ২৫টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই জোড়া খুনের ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। অন্যদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে নজিরবিহীনভাবে অপমান করা হয়। ভুক্তভোগী এই মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে এলাকাছাড়া হয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

দিনাজপুরের খানসামায় মসজিদে যাওয়ার পথে দলীয় কোন্দলের জেরে হামলার শিকার হন মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন সরকার। দুই সপ্তাহ চিকিৎসার পর তিনি নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুরপাড়ায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনে গভীর রাতে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা হামলা ও ভাঙচুর চালায়। রাজধানী ঢাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দেওয়ায় সিরাজগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানকে বেধড়ক মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তাঁকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিটের সাবেক সহকারী কমান্ডার মো. তরিকুল আলমকে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় অপদস্ত করা হয়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে চাঁদা না দেওয়ায় এ বি এম শামসুল আলম ও মুছা মিয়ার ওপর স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। শরীয়তপুর, নীলফামারী, যশোর, বরগুনা, গাইবান্ধা, কুষ্টিয়া ও পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জমিজমা দখল ও পূর্ববিরোধের জেরে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর উত্তরায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও মুক্তিযোদ্ধা কে এম নূরুল হুদাকেও হেনস্তার শিকার হতে হয়।

ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে স্বার্থান্বেষী মহল সুযোগ বুঝে তাঁদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সাথে আপস না করার কারণেই তাঁদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে অনেকে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। অনেক ক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও আসামিরা দ্রুত জামিন পেয়ে যাচ্ছে। উল্টো ভুক্তভোগীদের ওপর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

এস এম/ ২৬ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language