ক্রিকেট

মানসিক অবসাদে ক্রিকেট ছাড়া আর্যমান বিরলাই এখন আরসিবির কর্ণধার

বেঙ্গালুরু, ২৫ মার্চ – ক্রিকেট থেকে বিরতি নেওয়ার সময় আর্যমান বিরলা আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে তিনি যেন কোনো ফাঁদে আটকে পড়েছেন। একের পর এক চোট এবং মানসিক অবসাদের কারণে ২২ বছর বয়সেই থমকে যায় তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সাময়িক ছুটি নিলেও সেই ছুটি আর শেষ হয়নি।

তবে সময়ের পরিক্রমায় ২৮ বছর বয়সী আর্যমান এখন নতুন পরিচয়ে ক্রিকেটে ফিরেছেন। তিনি এখন আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অন্যতম কর্ণধার। আর্যমানের পারিবারিক পরিচয় বেশ প্রভাবশালী। তিনি ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আদিত্য বিরলা গ্রুপের উত্তরাধিকারী। প্রায় ১৬ হাজার ৬৬০ কোটি ভারতীয় রুপির চুক্তিতে চারটি প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনে নিয়েছে এবং এতে বড় অংশ রয়েছে এই গ্রুপের।

নতুন মালিকানায় আর্যমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। ১৮৫৭ সালে শিব নারায়ণ বিরলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য পরবর্তীতে ঘনশ্যাম দাস বিরলা ও আদিত্য ভিক্রাম বিরলার হাত ধরে বিশ্বব্যাপী প্রসারিত হয়। ১৯৯৫ সালে আদিত্য ভিক্রাম বিরলার মৃত্যুর পর থেকে আর্যমানের বাবা কুমার মাঙ্গালাম বিরলা এই গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা বর্তমানে বিশ্বের ৪২টি দেশে বিস্তৃত। এমন প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হয়েও আর্যমান নিজ যোগ্যতায় ক্রিকেটে পরিচিতি পেতে চেয়েছিলেন। মুম্বাইয়ে সুযোগ কম থাকায় ১৭ বছর বয়সে তিনি মধ্যপ্রদেশে পাড়ি জমান।

পরিবার থেকে দূরে থেকে জুনিয়র পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন এবং ইংল্যান্ডে পল উইকসের অধীনে অনুশীলন করেন। ২০১৬ থেকে ২০১৭ মৌসুমে অনূর্ধ্ব ২৩ সিকে নাইডু ট্রফিতে ৯ ইনিংসে ৩টি সেঞ্চুরিসহ ৬০২ রান করে তিনি আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এর আগে মধ্যপ্রদেশ দলে নিজেকে বহিরাগত মনে করলেও পারফরম্যান্স দিয়ে সম্মান অর্জনের লক্ষ্য ছিল তার।

২০১৭ সালে ওড়িশার বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের দিন ভাঙা আঙুল নিয়ে মাঠে নামেন তিনি। ব্যথা উপেক্ষা করে প্রায় দুই ঘণ্টা ক্রিজে থেকে রাজাত পাতিদারর সঙ্গে ৭২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন, যা সতীর্থদের কাছে তার সম্মান বাড়িয়ে দেয়। পরের মৌসুমে ইডেন গার্ডেনে বাংলার বিপক্ষে দীর্ঘ ২৭১ মিনিট ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচানো একটি সেঞ্চুরি করেন তিনি। এই পারফরম্যান্স তাকে নিজস্ব পরিচিতি এনে দেয়। এক সাক্ষাৎকারে আর্যমান জানিয়েছিলেন, বিশ্বাস ও সম্মান অর্জনের সেরা উপায় হলো ভালো পারফরম্যান্স করা।

রান করতে শুরু করার পর মানুষ তাকে অন্যভাবে দেখতে শুরু করে। শুরুতে নামের কারণে বিরলার ছেলে বা নাতি হিসেবে পরিচিত হলেও পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি মানুষের সেই ধারণা বদলে দিয়েছিলেন। তিনি এটিকে তার বড় অর্জন হিসেবে দেখতেন। ২০১৮ সালে আইপিএলের নিলামে ৩০ লাখ রুপিতে রাজস্থান রয়্যালস তাকে দলে নেয়। তবে পরের মৌসুমেও দলে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ তিনি পাননি।

এরপরই চোট এবং মানসিক অবসাদের কারণে ২০১৯ সালের জানুয়ারির পর তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়। মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি ক্রিকেট থেকে অনির্দিষ্টকালের ছুটি নেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে নিজেকে ভালোভাবে বুঝতে এবং জীবনের নতুন উদ্দেশ্য খুঁজতে তিনি এই বিরতি নিচ্ছেন।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অন্ধ্র প্রদেশের বিপক্ষে খেলা রাঞ্জি ট্রফির ম্যাচটিই হয়ে থাকে তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। সাত বছর পর এখন তিনি ক্রিকেটে ফিরছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায়।

আইপিএলে খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও, এখন তিনি এই লিগের অন্যতম জনপ্রিয় দলের মালিক। দায়িত্ব পরিবর্তন হলেও ক্রিকেট নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখতে আর কোনো বাধা রইল না তার সামনে।

এ এম/ ২৫ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language