সংঘাত বন্ধ ও শিশু সুরক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার, জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্যাপ্টেন কিবরিয়ার বৈঠক

আন্তর্জাতিক অঙ্গন, ২৫ মার্চ – আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাত বন্ধ এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে অংশ নিয়ে এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের সঙ্গে বৈঠকের পর সোমবার আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ভেনেসা ফ্রেজিয়ারের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শিশুদের সুরক্ষা প্রদান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের বাস্তবায়ন এবং মানবিক সংকট নিরসনে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ক্যাপ্টেন কিবরিয়া বলেন যে বিশ্ব এখন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে নীরব থাকার কোনো সুযোগ নেই। শিশু হত্যা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ওপর হামলার মতো ঘটনাগুলোকে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এসব ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করার জোর দাবি জানান। তিনি আরও জানান যে জাতিসংঘ ও অংশীদারদের সমন্বয়ে চলমান বৈশ্বিক অভিযানের তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এগুলো হলো শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষিত রাখা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করে তোলা, শক্তিশালী জোট গঠন করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো তারা যেন শান্তির পথ বেছে নেয় এবং নিজেদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
সাম্প্রতিক আলোচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সংঘাতের সময় সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ প্রযোজ্য আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনার বিষয়টিও এখন সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ক্যাপ্টেন কিবরিয়া সতর্ক করে বলেন যে এ ধরনের নৃশংসতার মুখে নীরব থাকা কোনোভাবেই নিরপেক্ষতা নয় বরং তা অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।
এটি কেবল কোনো প্রতীকী উদ্যোগ নয়। কূটনীতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করে নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সম্মিলিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সংকটের অবসান ঘটানো সম্ভব এবং বিশ্ব খুব শিগগিরই শান্তির পথে এগিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
এ এম/ ২৫ মার্চ ২০২৬









