গাইবান্ধায় তীব্র জ্বালানি সংকট, ১৭টি ফিলিং স্টেশন বন্ধ

গাইবান্ধা, ২৩ মার্চ – উত্তরের জেলা গাইবান্ধায় দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় জেলার সাতটি উপজেলার ১৭টি ফিলিং স্টেশনের সবগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে।
গাইবান্ধা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শহরের বিভিন্ন পাম্প ও উপজেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে এই তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাম্প মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে সংকটের কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনগুলোর তথ্যমতে, গাইবান্ধায় প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। তবে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ফলশ্রুতিতে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এদিকে জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। শহরের দাড়িয়াপুর রোডের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলায় দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শহরের অন্যতম প্রধান এস এ কাদির অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন গত কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ক্যাশিয়ার সরকার মিঠু মিয়া জানান, পর্যাপ্ত তেল না থাকায় পাম্প চালু করা যাচ্ছে না। অল্প পরিমাণ তেল নিয়ে বিক্রি শুরু করলে ক্রেতাদের রোষানলে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
রহমান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জুয়েল মিয়াও অভিন্ন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, শুরুতে মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও পরে তা ১০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। মজুত সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পাম্পটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
অন্যদিকে পাম্পে তেল না থাকার সুযোগে খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতাদের দাবি, এক লিটার তেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অনেকেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তবে পাম্প মালিকরা বলছেন, বাইরের এলাকা থেকে অতিরিক্ত মোটরসাইকেলের আগমন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা এবং চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত সরবরাহ সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
শহরের বিভিন্ন পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় মোটরসাইকেল চালকদের। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক সিয়াম ও আবু সালেহ জানান, একাধিক পাম্প ঘুরেও তারা কোনো জ্বালানি পাননি। দ্রুত এই জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জেলার পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এনএন/ ২৩ মার্চ ২০২৬









