জাতীয়

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকা: কমেছে দূষণ, সড়কে ফিরেছে স্বস্তি

ঢাকা, ২৩ মার্চ – বাড়তি মানুষ ও যানবাহনের চাপে হাঁসফাঁস করা রাজধানী ঢাকা ঈদের ছুটিতে যেন অনেকটাই স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। কোলাহলমুক্ত সড়ক এবং অফিস ও কলকারখানা বন্ধ থাকার পাশাপাশি বৃষ্টির প্রভাবে দূষণ অনেকটাই কমে গেছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এবার রেকর্ডসংখ্যক মানুষ রাজধানী ছেড়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, ঈদের দিন পর্যন্ত প্রায় এক কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। দীর্ঘ ছুটি ও পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণের কারণে দুই কোটির বেশি মানুষের এই নগরী এখন প্রায় ফাঁকা।

যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় রাজধানীতে বায়ুদূষণের পাশাপাশি শব্দদূষণও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। স্বাভাবিক কোলাহলমুক্ত পরিবেশে ঢাকার সড়কগুলোতে কান ঝালাপোড়া করা হর্নের শব্দ এখন আর নেই।

বায়ুর মান পরিমাপকারী আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যমতে, রোববার ঢাকার বাতাস ‘গ্রহণযোগ্য বা স্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে ছিল। এদিন বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই স্কোর ছিল ৮১। একই সময়ে পল্টনে ৮৩, সাভারে ৮৪, আজিমপুরে ৮৮ ও টঙ্গীতে স্কোর ছিল ৯২।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঈদের ছুটির আগের সপ্তাহে ঢাকার একিউআই স্কোর গড়ে ১০৯ থেকে ১৫৪ এর মধ্যে অবস্থান করছিল। বায়ুমান বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক জানান, বৃষ্টির কারণে বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা নিচে নেমে গেছে। পাশাপাশি ইটভাটা ও কলকারখানা বন্ধ থাকায় এবং যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাতাসের মানে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও বলেন, ছুটি শেষে পরিস্থিতি হয়তো আবারও কিছুটা বদলে যাবে।

এদিকে, ফাঁকা সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও ফিরেছে অভাবনীয় স্বস্তি। পুরানা পল্টনের মতো অত্যন্ত ব্যস্ত মোড়ে এখন মাত্র একজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য হাতের ইশারায় অনায়াসেই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন।

মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকেও চালকরা নির্বিঘ্নে গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছেন। রাজপথে এখন মূলত ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিপত্য। যাত্রীর চাপ কম থাকলেও ঈদের বকশিশ এবং যানজটমুক্ত দ্রুত যাতায়াতের কারণে চালকদের আয় বেড়েছে।

মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তায় পৌঁছাতে এখন মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগছে, যা সাধারণ সময়ে আড়াই ঘণ্টারও বেশি লাগত। তবে সোমবার বিকাল থেকে রাজধানীর এই চিত্র ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করবে এবং মঙ্গলবার থেকে কর্মজীবী মানুষ আবার শহরে ফিরতে শুরু করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনএন/ ২৩ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language