৪ হাজার কিমি দূরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আতঙ্কে ইউরোপ

তেহরান, ২২ মার্চ – ইরান সম্প্রতি চার হাজার কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। শনিবারের এই ঘটনার পর থেকে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে তেহরান এত দূরের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি ডিয়েগো গার্সিয়া পর্যন্ত হামলা চালাতে সক্ষম হয়, তবে লন্ডন বা প্যারিসের মতো ইউরোপের প্রধান শহরগুলোও তাদের হামলার আওতায় চলে আসবে। এর ফলে ইউরোপের শহরগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের পূর্ববর্তী ধারণা ছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার। গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও এমনটাই জানিয়েছিলেন। কিন্তু শনিবারের হামলার পর সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তেহরান গোপনে তাদের সামরিক শক্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বহুগুণ বাড়িয়েছে, যা এখন মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিপরীতে প্রকাশ্যে আসছে। তবে শনিবার ভোরে ছোড়া ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ডিয়েগো গার্সিয়ায় আঘাত হানতে পারেনি। প্রথমটি মাঝপথেই ব্যর্থ হয় এবং দ্বিতীয়টি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়। ফলে চার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা ওই ক্ষেপণাস্ত্রের ছিল কি না, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবুও এই প্রথম মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান প্রমাণ করেছে যে, তাদের সামরিক সক্ষমতা কেবল পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই। এই হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাজ্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য আমেরিকাকে আরও বেশি অনুমতি দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকাকে সাহায্য করে যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করছে। ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশ ভূখণ্ড ডিয়েগো গার্সিয়া একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি, যেখান থেকে মার্কিন বোমারু বিমান, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা হয়। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার ছেলে মোজতবা খামেনি দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরান আরও কঠোর সামরিক অবস্থান গ্রহণ করছে এবং ডিয়েগো গার্সিয়ায় হামলা তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ।
এস এম/ ২২ মার্চ ২০২৬









