মধ্যপ্রাচ্য

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর সংঘাত নিরসনে তৎপর সৌদি আরব, ভরসা পাকিস্তানের পারমাণবিক ছাতা

তেহরান, ১৯ মার্চ – ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের উত্তাপ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও তীব্র হচ্ছে। যুদ্ধের পরিধি এখন আর কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। গোটা অঞ্চলজুড়ে একের পর এক তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে হামলার ঘটনা ঘটছে। বুধবার ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রের একটি উৎপাদন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র এবং ইরানের প্রধান জ্বালানি উৎস হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতিতে ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে।

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই এর দায় স্বীকার করেনি। এই হামলার পর তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোয় প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর আগে তেহরানের তেলের ডিপোতেও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবে ইরান এখন কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও বাহরাইনের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিরসনে সৌদি আরব বর্তমানে তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তানের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব ও ইসলামি দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি পরামর্শমূলক বৈঠকের ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেছেন।

এই সভায় পাকিস্তানের ইসহাক দার, তুরস্কের হাকান ফিদান এবং মিসরের বদর আবদেলাত্তি উপস্থিত ছিলেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই বৈঠকে অঞ্চলে ইরানের উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপ এবং সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জনে যৌথ প্রচেষ্টা সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কানাডার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক সৌদি বিশ্লেষক জানান, সৌদি আরব যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জোটের পক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, তবে পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে রিয়াদ দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর নির্ভর করতে পারে।

সৌদি ভূরাজনৈতিক গবেষক সালমান আল আনসারি বলেন, সৌদিরা যদি পূর্ণ শক্তি নিয়ে যুদ্ধে নামার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে ইরানই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ সৌদি আরব তখন পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আক্ষরিক অর্থেই সৌদি আরবের মাথার ওপর একটি পারমাণবিক ছাতা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ এর মতো একটি নীতি, যেখানে যৌথ প্রতিরক্ষার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দুই দেশের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, কোনো এক দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন উভয় দেশের বিরুদ্ধেই আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে। তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর অর্থ হলো, সৌদি আরব বড় ধরনের কোনো আক্রমণের শিকার হলে পাকিস্তান তাদের সামরিক সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে।

এস এম/ ১৯ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language