সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ ঈদ

দক্ষিণ চট্টগ্রাম, ১৯ মার্চ – বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া ও সাতকানিয়াসহ অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রামে শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত ভোররাতে সাহরি খেয়ে পবিত্র রমজান মাসের রোজা পালন শুরু করেছিলেন মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা।
প্রতি বছরের মতো এবারও তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামে এটি দীর্ঘদিনের পরিচিত বাস্তবতা হলেও দেশে ভিন্ন দিনে রোজা শুরু বা ঈদ উদযাপন নিয়ে প্রতিবছরই মানুষের মাঝে কৌতূহল তৈরি হয়।
মির্জাখীল দরবার সূত্রে জানা যায় যে প্রায় আড়াইশ বছর আগে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল গ্রামের হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীরি হানাফি মাজহাবের আলোকে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা অনুসরণ করে রোজা ও ঈদ পালনের ফতোয়া প্রদান করেন। সেই ধারাবাহিকতায় দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার ঘোষণাকে গুরুত্ব দিয়ে রোজা এবং ঈদ পালন করে আসছেন।
মির্জাখীল দরবার শরীফের দায়িত্বশীল মুহাম্মদ জালালুল হাই জানান যে তারা হানাফি মাজহাবের অনুসারী এবং আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার খবর দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে শুক্রবার ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। তিনি আরও বলেন যে এটি তাদের শতবর্ষী ধর্মীয় অনুশাসন এবং তারা কারও বিরোধিতা করছেন না। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও পটিয়া উপজেলার অন্তত পঞ্চাশটির বেশি গ্রামে লক্ষাধিক মানুষ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে সাতকানিয়ার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, ছোটহাতিয়া ও আছারতলি। লোহাগাড়ার কলাউজান, বড়হাতিয়া ও চুনতি।
বাঁশখালীর ছনুয়া, চাম্বল ও শেখেরখীল এবং পটিয়ার হাইদগাঁও, বাহুলী, ভেল্লাপাড়া ও মোহাম্মদ নগরসহ বিভিন্ন এলাকা। এছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং ভারত, মিয়ানমার, জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত তাদের অনুসারীরাও একই নিয়মে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায় বাংলাদেশে রমজান ও ঈদ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুসরণ করা হয়। দেশের অধিকাংশ মুসলমান সেই ঘোষণার ভিত্তিতেই ঈদ উদযাপন করেন। তবে স্থানীয়ভাবে কিছু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে আসছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রামের একজন ইসলামি গবেষক জানান যে চাঁদ দেখার বিষয়ে মাজহাবভেদে ভিন্ন মত রয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করলে মুসলিম সমাজে ঐক্য আরও দৃঢ় হয় বলে তিনি মনে করেন। একই দেশে একাধিক দিনে ঈদ হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান যে এটি এই অঞ্চলের বহুদিনের চর্চা এবং আইনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি না হলে সাধারণত প্রশাসন এতে হস্তক্ষেপ করে না।
দীর্ঘদিন ধরে এটি শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বাস ও বাস্তবতার মাঝে ব্যতিক্রমী এই ঈদ পালন একদিকে যেমন শতবর্ষী ধর্মীয় ঐতিহ্য ধারণ করছে অন্যদিকে জাতীয় ঐক্য ও চাঁদ দেখার নীতিমালা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।
এ এম/ ১৯ মার্চ ২০২৬









