চট্টগ্রাম

জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ

চট্টগ্রাম, ১৮ মার্চ – চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় জেপি সনেট লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন অবশেষে পরিশোধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কঠোর হস্তক্ষেপে কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা প্রায় ১৬ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এর মধ্য দিয়ে টানা চার দিনের শ্রমিক অসন্তোষের অবসান ঘটল।

গত ১৪ মার্চ থেকে তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানার প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এরপর ১৬ মার্চ জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং শিল্প পুলিশের উপস্থিতিতে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রি করে পাওনা পরিশোধের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ১৭ মার্চ রাত পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে এবং নারী শ্রমিকসহ অনেকেই কারখানায় অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসক কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না। তাই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কারখানার যন্ত্রপাতি ও মজুত মালামাল বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। রাত ১২টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর আজ ১৮ মার্চ ভোর ৬টায় পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস জানান, বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করেই শ্রমিকদের পাওনা মেটাতে হয়েছে। প্রশাসনের তদারকিতে কাজ হওয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ভুক্তভোগী সিনিয়র অপারেটর মো. মনির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক নিজে টেলিফোনে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বক্ষণিক তদারকি করেন। তিনি মালিকপক্ষকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন যে প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও বকেয়া মেটাতে হবে।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া ঈদের আগে শ্রমিকেরা তাঁদের পাওনা পেতেন না।

চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসানও জানান, জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই মালিকপক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বিষয়টি জানার পরই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় পাঠানো হয়। ঈদের আগে শ্রমিকদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে যন্ত্রপাতি বিক্রি করার মতো কঠোর নির্দেশ দেওয়া ছাড়া অন্য উপায় ছিল না।

এনএন/ ১৮ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language