এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করল মালয়েশিয়া

কুয়ালালামপুর, ১৮ মার্চ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহারি আব্দুল ঘানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং মালয়েশিয়ার মধ্যকার পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বা অ্যাগরিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড বর্তমানে পুরোপুরি অকার্যকর।

এই চুক্তির আর কোনো আইনি বা বাণিজ্যিক ভিত্তি অবশিষ্ট নেই। সিএশিয়া নিউজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত ২০ ফেব্রুয়ারি পারস্পরিক শুল্ক নীতিটি বাতিল করে দেয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ মার্কিন শুল্ক নির্ধারিত ছিল। পাশাপাশি কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধাও দেওয়া হয়েছিল এবং এর বিনিময়ে মালয়েশিয়া মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার ও নীতিগত ছাড় প্রদান করে। মন্ত্রী জোহারি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো শুল্ক আরোপ করতে চায় তবে তা সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণের ভিত্তিতে হতে হবে।

বাণিজ্য ঘাটতির অজুহাতে শুল্ক বসাতে হলে মার্কিন সরকারকে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাত নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। সামগ্রিকভাবে সব পণ্যের ওপর ঢালাওভাবে শুল্ক আরোপ করা যাবে না। বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারা প্রয়োগ করে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক কার্যকর করেছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মার্কিন বাজারে মালয়েশিয়ার রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন রিংগিত।

বাতিল হওয়া চুক্তির কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স, তেল, গ্যাস, পাম তেল এবং রাবার ভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য। মন্ত্রী জোহারি মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক শ্রম ও পরিবেশগত সব মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে যাতে ভবিষ্যতে বাণিজ্যে নতুন কোনো বাধা না আসে। মালয়েশিয়ার এই সিদ্ধান্তকে অন্যান্য দেশের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত মার্কিন শুল্কের ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে চুক্তি মেনে নিয়ে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছিল। কিন্তু আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের ফলে এই চুক্তিগুলোর আওতাধীন অগ্রাধিকারমূলক সুবিধাগুলো এখন কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়েছে।

এ এম/ ১৮ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language