রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখার ইসলামি বিধান: সাক্ষ্য, বিজ্ঞান ও শরিয়তের দৃষ্টিকোণ

বাংলাদেশ, ১৮ মার্চ – রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়তের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে রমজানের চাঁদ দেখার জন্য একজন সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সাক্ষ্যই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে নারী বা পুরুষের বিধান একই।
তবে ঈদের চাঁদ দেখার জন্য অন্তত দুজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারীর সাক্ষ্য প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে এত বেশিসংখ্যক মানুষের সাক্ষ্য জরুরি যা মুসলিম বিচারক ও মুফতিদের সমন্বয়ে গঠিত হেলাল কমিটির কাছে সন্দেহমুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নির্ধারিত নেই। বিশেষজ্ঞ আলেম ও মুফতিদের নিয়ে গঠিত জাতীয় হেলাল কমিটির শরিয়তসম্মত ঘোষণা মেনে চলা সবার জন্য আবশ্যক।
তবে কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য মুফতিদের শরিয়তসম্মত ঘোষণা অনুযায়ী আমল করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না করে জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ইসলাম উৎসাহিত করে। চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে ইসলাম সাধারণত খালি চোখকে প্রাধান্য দেয়।
টেলিস্কোপ বা দুরবিনের সাহায্যে চাঁদ দেখার বিষয়টি নীতিগতভাবে উৎসাহিত করা না হলেও কেউ যদি এর মাধ্যমে সঠিক সময়ে ও স্থানে চাঁদ দেখতে পান তবে শরিয়তে তা গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। কেবলমাত্র চাঁদের অস্তিত্ব বা বৈজ্ঞানিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে মাস শুরু করার সুযোগ ইসলামে নেই। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচক্ষে চাঁদ দেখার পরই রোজা শুরু বা শেষ করতে হবে। চাঁদ দেখা না গেলে মাস ৩০ দিন পূর্ণ করতে হবে।
আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করেন যে প্রায় ছয় হাজার পরিবর্তনশীল নিয়ামকের কারণে স্থায়ী সৌর ক্যালেন্ডারের মতো নিশ্চিত চান্দ্র ক্যালেন্ডার তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে বিজ্ঞানীদের তথ্য পুরোপুরি বাতিল করা হয় না।
যদি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বাস্তবভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট দিনে চাঁদ দেখার একেবারেই কোনো সম্ভাবনা না থাকে তখন দুএকজন মানুষের সাক্ষ্য ভুল হিসেবে গণ্য করে তা প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ ইসলামি আইনে রয়েছে। এর মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও প্রতারণা এড়ানো সহজ হয়।
এ এম/ ১৮ মার্চ ২০২৬









