দক্ষিণ এশিয়া

ইরানের খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার হুমকিতে চীনের তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

তেহরান, ১৬ মার্চ – ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই পরিচালিত হয় এই দ্বীপের মাধ্যমে। এখান থেকেই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল নিয়মিতভাবে চীনের বাজারে সরবরাহ করা হয়। তাই এই দ্বীপে হামলার খবর এবং হুমকির কারণে চীনের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মার্কিন বাহিনী ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত এই খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করে দিতে পারে। এই হুমকির পরই চীনের বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে।

যদিও ট্রাম্পের আগের হামলাগুলোতে জ্বালানি অবকাঠামো অক্ষত ছিল, তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তবে খার্গ দ্বীপের জ্বালানি স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেওয়া হবে। এমনকি রবিবার তিনি নতুন করে হুমকি দিয়ে বলেন, মার্কিন বাহিনী যেকোনো সময় দ্বীপটিতে পুনরায় আঘাত হানতে প্রস্তুত। উপকূল থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খার্গ নামের এই প্রবাল দ্বীপটি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এর অবস্থান। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান এই দ্বীপ হয়ে প্রায় এক কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে।

এপি এবং রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল ক্রয় করে চীন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯১ শতাংশই চীনে গেছে। গত বছর প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে বেইজিং, যার বড় অংশই চীনের শ্যাংডং প্রদেশের তেল শোধনাগারগুলোতে ব্যবহৃত হয়।

এই সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যেতে পারে, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে চীন। ইতোমধ্যে চীনের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় চালকরা গ্যাস স্টেশনগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। ফলস্বরূপ, গ্যাসোলিন এবং ডিজেলের দামও হু হু করে বাড়ছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত চীনের বাজারে জ্বালানির দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্চ মাস থেকে শোধিত তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

এস এম/ ১৬ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language