আরও দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

তেহরান, ১৫ মার্চ – ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তারা ইরানের সামরিক নেতৃত্বের ওপর চলমান ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ হিসেবে আরও দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে।
এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে গত শুক্রবার তেহরানে পরিচালিত এক বিমান হামলায় আবদুল্লাহ জালালি নাসাব ও আমির শরীয়ত নামের ওই দুই কর্মকর্তা নিহত হন। তারা খাতাম আল আনবিয়া ইমার্জেন্সি কমান্ডের গোয়েন্দা পরিদপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন। ইসরায়েলের ধারণা এই মৃত্যুর ঘটনা ইরান সরকারের কমান্ড ও কন্ট্রোল কাঠামোর জন্য একটি বড় ধরনের আঘাত।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল জালালি নাসাবের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তবে আমির শরীয়তের অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানায়নি। ইসরায়েল আরও জানিয়েছে দুই সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৪০০ দফার বিমান হামলা চালিয়েছে। শনিবারেই ইসরায়েল ২০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে যার মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অস্ত্র মজুত কেন্দ্র। একইসঙ্গে ইরানের অন্যান্য স্থানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা পরিচালনা করছে বলে জানানো হয়।
এছাড়া গত শুক্রবার ইসরায়েল ইরানের প্রধান মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রেও হামলা চালায় যা সামরিক স্যাটেলাইটের কাজ এবং আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আবদুর রহিম মুসাভি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ আজিজ নাসিরজাদে। এছাড়াও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মারা যান ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
এনএন/ ১৫ মার্চ ২০২৬









