ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ে ফ্রি সিমের প্রলোভন: অন্যের নামে অপরাধ, বিপাকে সাধারণ মানুষ

ঠাকুরগাঁও, ১৪ মার্চ – ঠাকুরগাঁওয়ে বিনামূল্যে সিম কার্ড ও রিচার্জের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে একটি অসাধু চক্র। এই চক্রের কাছ থেকে রবি ও এয়ারটেলের সিম সংগ্রহ করে বর্তমানে চরম বিপাকে পড়েছে জেলার অনেক পরিবার। অনেকেই নিজেদের অজান্তে জড়াচ্ছেন বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হয়েও তারা কোনো কার্যকর সুফল পাচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার আকচা, মোহাম্মদপুর ও চিলারং ইউনিয়নের সহজ সরল মানুষদের টার্গেট করে প্রতারকরা দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ডের বিনিময়ে বিনামূল্যে সিম এবং সাথে ১০৫ টাকা রিচার্জের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে তারা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে।

অভিযোগ রয়েছে, একটি সিম দেওয়ার কথা বলে চক্রটি গ্রাহকের এনআইডি ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধন করিয়ে নেয়। এর ফলে বিনামূল্যে সিম নেওয়া ব্যক্তিদের অনেকের নামেই অজান্তে ১৫ থেকে ৩০টি পর্যন্ত অতিরিক্ত নম্বর নিবন্ধিত হয়ে গেছে। এই অতিরিক্ত সিমগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। অপরাধ সংঘটিত হলে সিমের প্রকৃত নিবন্ধক আইনি জটিলতায় পড়ছেন।

সদর উপজেলার আকচা এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজা জানান, তার পরিবারের সদস্যরাও এই প্রতারণার শিকার। একটি সিম নেওয়ার পর তারা জানতে পারেন, পরিবারের এক সদস্যের এনআইডিতে ২৮টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে।

একই এলাকার নুর নাহার বেগম জানান, একটি সিম কেনার পর তার এনআইডিতে ২২টি সিম রেজিস্ট্রেশনের তথ্য মিলেছে। কাস্টমার কেয়ারে গিয়েও তিনি এই অতিরিক্ত নম্বরের নিবন্ধন বাতিল করতে পারেননি।

অন্যদিকে সাদিকুল ও সোলেমান নামে দুই ভুক্তভোগী জানান, তাদের স্ত্রীদের নামে নিবন্ধিত সিম অপরাধীরা ব্যবহার করায় পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাদের ঢাকা ও কক্সবাজার পর্যন্ত দৌড়াতে হয়েছে।

রবি কাস্টমার কেয়ার থেকে নিবন্ধিত সিম বাতিল সম্ভব নয় বলে জানানো হলেও রবির কর্পোরেট কমিউনিকেশন অফিসার আশরাফুল ইসলাম জানান, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছেন। দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থেকেও এমন অভিযোগ এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন বাতিল না হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এনআইডি ব্যবহার করে একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এনএন/ ১৪ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language