সদকাতুল ফিতর আদায়ের সঠিক নিয়ম ও প্রয়োজনীয় মাসআলা

রিয়াদ, ১৪ মার্চ – ইসলামে সদকাতুল ফিতর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক ইবাদত। রমজানের সিয়াম সাধনার পর ঈদের আনন্দ যেন সমাজের সব স্তরের মানুষ উপভোগ করতে পারে, সেজন্য আল্লাহ তাআলা এই সদকা ওয়াজিব করেছেন। এটি কেবল দরিদ্রের প্রতি করুণা নয়, বরং রোজার ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করার এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। প্রবাসীদের ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, তারা যে দেশে অবস্থান করবেন, সেখানকার বাজারমূল্য অনুযায়ী ফিতরা হিসাব করতে হবে। অর্থাৎ, কেউ সৌদি আরবে থাকলে এবং বাংলাদেশে ফিতরা দিতে চাইলে, তাকে সৌদি আরবের সর্বনিম্ন ফিতরার হার অনুযায়ী অর্থ পাঠাতে হবে।
তবে প্রবাসীর স্ত্রী বা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা দেশে থাকলে, তারা দেশের বাজারমূল্য অনুযায়ী নিজেদের ফিতরা আদায় করতে পারবেন। বাংলাদেশে চাল প্রধান খাদ্য হলেও হাদিসে সরাসরি চালের কথা উল্লেখ নেই। নবী করিম (সা.) গম, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনিরের কথা উল্লেখ করেছেন। কেউ চাল দিয়ে ফিতরা দিতে চাইলে, তাকে ওই পাঁচটি দ্রব্যের যেকোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে। খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে অর্থ দিয়ে ফিতরা আদায় করাও ইসলামে বৈধ এবং বর্তমান সময়ে এটি দরিদ্রদের প্রয়োজন পূরণে বেশি সহায়ক। সামর্থ্যবানদের শুধু গমের সর্বনিম্ন মূল্য না ধরে কিশমিশ, খেজুর বা পনিরের মূল্য অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া উচিত।
জাকাত ও ফিতরার নিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অতিরিক্ত জমি বা আসবাবপত্রের মালিক হলে, যার ওপর জাকাত ফরজ নয়, তাকেও ফিতরা দিতে হবে। ঈদের দিন সকালে এই পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে ফিতরা ওয়াজিব হয়। ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগেই ফিতরা আদায় করা সর্বোত্তম। অভাবী আত্মীয়স্বজনকে ফিতরা দেওয়া সবচেয়ে উত্তম। তবে অমুসলিম, নিজের ঊর্ধ্বতন বা অধস্তন আত্মীয় এবং স্বামী বা স্ত্রীকে ফিতরা দেওয়া বৈধ নয়। কাজের লোককে ফিতরা দেওয়া গেলেও তা পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না। মোবাইল ব্যাংকিং যেমন বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে ফিতরা পাঠালে ক্যাশ আউট চার্জ দাতাকেই বহন করতে হবে, যাতে ফিতরার সম্পূর্ণ অর্থ দরিদ্রের হাতে পৌঁছায়। রোজা না রাখলেও নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে ফিতরা আদায় করা বাধ্যতামূলক।
এস এম/ ১৪ মার্চ ২০২৬









