মধ্যপ্রাচ্য

অব্যাহত হামলার পরও অক্ষত ইরানের অধিকাংশ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার

তেহরান, ১৩ মার্চ – গত এক সপ্তাহের অব্যাহত বিমান হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী মোবাইল বা চলমান ছোট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির দুই তৃতীয়াংশ লঞ্চার ধ্বংস করেছে।

গত সপ্তাহেও তারা ৬০ শতাংশ লঞ্চার ধ্বংসের একই দাবি করেছিল। এর অর্থ হলো এক সপ্তাহ পার হলেও লঞ্চারের সংখ্যা খুব একটা পরিবর্তিত হয়নি। পশ্চিমা হিসাব অনুযায়ীও ধ্বংস হওয়া লঞ্চারের হার ৬০ শতাংশ। তবে একটি হিসাবে বলা হয়েছে ইরানের মোট আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ৮০ শতাংশ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। মোবাইল লঞ্চারগুলো মূলত ইরানের বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার প্রধান হাতিয়ার। বিশাল আয়তনের একটি দেশে এই যানগুলো খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।

তাছাড়া বেশ কিছু আকাশসীমা এখনও মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানও আগে থেকেই জানে যে তাদের এই লঞ্চারগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক কার্নেগি এন্ডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস এর সিনিয়র ফেলো অঙ্কিত পান্ডে জানান ইরানিরা সম্ভবত নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করছে। তারা লঞ্চারগুলো সুরক্ষিত রাখতে কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে এবং শাহেদ ড্রোনগুলোর ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এ পর্যন্ত ইরান পুরো অঞ্চলজুড়ে দুই হাজার চারশোর বেশি শাহেদ ১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করেছে। এর বিপরীতে অন্তত ৭৮৯টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৩৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল প্রায় দুই হাজার ৫০০টি। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা মূলত এসব মজুত এবং লঞ্চার ধ্বংসের দিকে নিবদ্ধ ছিল। ফলে ইরানের পক্ষে বাকি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও শাহেদ ড্রোনের হামলা ৮০ শতাংশের বেশি কমে এসেছে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকস এর প্রতিরক্ষা প্রধান বেক্কা ওয়াসার উল্লেখ করেছেন সপ্তাহের শেষ তিন দিনে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের গড় সংখ্যা ছিল দিনে ২১টি। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৮০ শতাংশ ধ্বংস হলেও ছোট ও লুকানো রেলগাড়ি থেকে ছোড়া ৩৫৮ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র খুঁজে পাওয়া কঠিন। ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের কাছেও থাকা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে ইনফ্রারেড সেন্সর ব্যবহৃত হয় যা রাডারের সংকেত ছাড়াই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সতর্ক হওয়ার খুব কম সময় দেয়।

এস এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language