মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যেই ইরানে পালিত হচ্ছে কুদস দিবস

তেহরান, ১৩ মার্চ – রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আজ ইরানসহ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কুদস দিবস। এবারের কুদস দিবস এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে যখন ইরান সরাসরি মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের শিকার। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই হামলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি ইরানি নাগরিক নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হতাহতদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও রাজধানী তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন।
তেহরানের এঙ্গেলার স্কয়ারে আয়োজিত মূল সমাবেশে অংশ নেওয়া জনতা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান। সমাবেশ চলাকালীন আকাশপথে হামলার শব্দ শোনা গেলেও সাধারণ মানুষের মাঝে কোনো আতঙ্ক দেখা যায়নি। বরং তারা সমস্বরে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেন। এবারের সমাবেশের একটি বিশেষ দিক ছিল নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন।
মিছিলকারীদের হাতে তার ছবি এবং ইরানের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা শোভা পাচ্ছিল। বহু মানুষ দলবদ্ধভাবে পিটিশনে স্বাক্ষর করে নতুন নেতৃত্বের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও সাধারণ মানুষের সাথে এই মিছিলে যোগ দেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই রাস্তায় সাধারণ মানুষের সাথে হাঁটতে দেখা যায়। সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণের দৃঢ় সংকল্প বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ট্রাম্প যত বেশি চাপ প্রয়োগ করবেন ইরানিদের প্রতিরোধের ইচ্ছা তত বেশি শক্তিশালী হবে। ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা মূলত ইসরায়েলের ভয় ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ। ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিরোধ যোদ্ধাদের শক্তি বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে দিয়েছে। একসময়ের যে মধ্যপ্রাচ্যকে শত্রুরা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবে দেখত তা এখন একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এস এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬









