সামাজিক বাস্তবতার দগদগে ক্ষত নিয়ে অনুভব সিনহার নতুন সিনেমায় তাপসী

মুম্বাই, ১৩ মার্চ – বলিউড অভিনেত্রী তাপসী পান্নু আবারও সামাজিক বাস্তবতার এক কঠিন বিষয় নিয়ে পর্দায় ফিরছেন। গুণী নির্মাতা অনুভব সিনহার নতুন সিনেমা ‘আশশি’ তে তিনি একজন সরকারি আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা আইবিএনএস কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী সিনেমাটির প্রেক্ষাপট ও নিজের চরিত্র নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। ‘মুলক’ ও ‘থাপ্পড়’ এর পর এটি অনুভবের সঙ্গে তাপসীর তৃতীয় কাজ। তাপসী জানান, সিনেমাটির নামকরণের পেছনে একটি ভয়াবহ পরিসংখ্যান রয়েছে।
ভারতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০টি ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। এই রূঢ় বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে। ছবিতে তিনি রাভি নামের একজন সরকারি কৌঁসুলির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাকে প্রতিনিয়ত স্পর্শকাতর ও জঘন্য সব মামলার আইনি লড়াই লড়তে হয়। এর আগে ‘মুলক’ সিনেমাতেও আইনজীবীর চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাপসীকে। তবে তিনি মনে করেন, রাভি চরিত্রটি সম্পূর্ণ আলাদা। তার মতে, আগের ছবিতে তিনি নিজের পরিবারের জন্য লড়েছিলেন।
কিন্তু এই সিনেমায় তিনি একজন পেশাদার আইনজীবী, যার কাছে এটি প্রতিদিনের রূঢ় বাস্তবতা। চরিত্রটিকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে তাপসী দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালত পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, সিনেমার আদালতের সঙ্গে বাস্তবের আদালতের অনেক পার্থক্য রয়েছে। বাস্তবের আদালত কক্ষগুলোতে এক ধরনের শীতলতা ও বিশৃঙ্খলা থাকে, যা তিনি এই সিনেমায় নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। ছবিতে তার উপস্থিতি কেন্দ্রীয় চরিত্র কানি কুসরুতির চেয়ে কম হলেও তা নিয়ে তিনি বিচলিত নন। তাপসীর মতে, পর্দায় কতক্ষণ থাকলেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো চরিত্রের গভীরতা দিয়ে দর্শকের মনে দাগ কাটা।
পরিচালক অনুভব সিনহার ওপর নিজের অগাধ বিশ্বাসের কথা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, শুটিংয়ের সময় তিনি মনিটরে নিজের অভিনয়ও দেখেন না। সিনেমার শেষাংশে তার চরিত্রের আবেগের যে বিস্ফোরণ ঘটে, তা মূলত ঘুণে ধরা সমাজের প্রতি একজন সচেতন নাগরিকের ক্ষোভেরই প্রতিফলন। অনুরাগ কশ্যপ বা সুজয় ঘোষের মতো নির্মাতাদের প্রিয় এই অভিনেত্রী আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি গতানুগতিক বাণিজ্যিক ধারার বাইরে গিয়ে সাহসী ও অর্থবহ গল্পে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এস এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬









