গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো করুণা নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব: তথ্যমন্ত্রী

বগুড়া, ১৩ মার্চ – রাষ্ট্রের মালিক জনগণ এবং সমাজ তৈরি করে জনগণ। তাই রাষ্ট্র ও সমাজের সব ধরনের তৎপরতাকে আয়নার মতো তুলে ধরাই গণমাধ্যমের প্রধান কাজ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম ছাড়া আধুনিক সভ্যতার জগতে সভ্যতা চর্চা করা যায় না। এটি আধুনিক সভ্যতায় একটি অনিবার্য অনুষঙ্গ। গণমাধ্যম ছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে এবং এমন সমাজ জনগণের কল্যাণে আসতে পারে না।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে রাজশাহী বিভাগের ৭ জেলার সাংবাদিক এবং তাদের পরিবারের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার দুপুরে বগুড়া শহরের করতোয়া কনভেনশন হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজ জনগণের কতটা কল্যাণে আসবে তা নিশ্চিত করে গণমাধ্যম। সে কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো করুণার বিষয় নয়, বরং এটি একটি অনিবার্য দায়িত্ব। অতীতে ক্ষমতাসীন দলগুলো গণমাধ্যমকে বারবার রাষ্ট্রীয় যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিএনপি তাদের ৩১ দফায় গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রণালয় এই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।
তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে তথ্যের সংজ্ঞায় পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সিটিজেন জার্নালিজম এবং নতুন ইকোসিস্টেমের কারণে অনেক সনাতনী মিডিয়া তাদের গুরুত্ব হারাচ্ছে। ইউটিউবাররা নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। তাই গণমাধ্যমকে প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে। সরকার যদি গণমাধ্যমকে স্বাধীন ও সক্রিয় করতে চায়, তবে এই নতুন ইকোসিস্টেমের ওপর ভিত্তি করেই তা ঢেলে সাজাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাধ্যমকে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কার্যকরী করতে যথেষ্ট উৎসাহ দিয়েছেন।
তবে সেবার নামে গণমাধ্যমের যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। বগুড়াকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি, বেগম খালেদা জিয়ার এলাকা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতৃভূমি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, এখানে সাংবাদিকদের ওপর আর কোনো অত্যাচার হবে না।
অতীতের বঞ্চনা দূর করে সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং অনতিবিলম্বে বগুড়ায় একটি টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া কৃষিকার্ড বিতরণ, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী চূড়ান্ত করা এবং দশ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ আব্দুল বাছিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের উপপরিচালক এ বি এম রফিকুল ইসলাম, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু এবং সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ।
এছাড়াও বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গনেশ দাস ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের ৭টি জেলার ৫১ জন সাংবাদিক এবং ৪৬ জন সাংবাদিকের মেধাবী সন্তানকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।
এ এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬









