উত্তর আমেরিকা

ইরান সংঘাতে তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ, ট্রাম্পের মন্তব্যে সমালোচনার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্র, ১৩ মার্চ – ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হবে বলে বৃহস্পতিবার মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তার এই মন্তব্যের পর তীব্র সমালোচনা করেছেন বেশ কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা। তাদের দাবি, ট্রাম্প কেবল সমাজের ধনিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষায় চিন্তিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। তাই যখন তেলের দাম বৃদ্ধি পায়, তখন দেশটি প্রচুর অর্থ আয় করে।

তবে এর পাশাপাশি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাকে তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। অ্যারিজোনার মার্কিন সিনেটর মার্ক কেলি এই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের শুরু করা যুদ্ধের কারণে সাধারণ কর্মজীবী আমেরিকানরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দামের কারণে শুধুমাত্র বড় বড় তেল কোম্পানিগুলোই আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কেলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ট্রাম্পের এই খুশির একমাত্র কারণ হলো তিনি সবসময় ধনী ব্যক্তিদের সুবিধা নিয়ে ভাবেন।

ডেমোক্র্যাটিক দলের অন্তত দুই জন আইনপ্রণেতা উইসকনসিনের মার্ক পোকান এবং ভার্জিনিয়ার ডন বেয়ারও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে করা এসব সমালোচনাকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন।

দেশাই জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে তেল ও গ্যাসের দাম সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেলেও সংঘাত শেষ হলে তা পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ট্রাম্পের মূল বক্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ও গ্যাস উৎপাদক এবং রপ্তানিকারক দেশ।

টি মূলত বর্তমান প্রশাসনের শক্তিশালী জ্বালানি নীতি পরিকল্পনার একটি সফল বাস্তবায়ন। উল্লেখ্য, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার বহুমুখী সংঘাতের জেরে ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নয় শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতি ব্যারেলের মূল্য ১০০ ডলারে পৌঁছেছে।

একই সময়ে ইরাকের একটি বন্দরে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান এসব ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালীতে আরও বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language