ভোটদান বিধিমালায় পরিবর্তন আনতে রিপাবলিকানদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ১৩ মার্চ – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটদান বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চাইছেন। এই লক্ষ্যে তিনি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের ওপর তীব্র চাপ প্রয়োগ করছেন। সমালোচকরা মনে করছেন, নির্বাচনি নিরাপত্তার কথা বলা হলেও এর মূল উদ্দেশ্য লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় এড়ানো। প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল ইতোমধ্যে সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি বা সেভ আইনের একটি সংস্করণ পাস করেছে।
তবে উচ্চকক্ষ সিনেটে বিলটি বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র বিরোধিতা রয়েছে এবং বিলটি পাস করানোর মতো প্রয়োজনীয় ভোট রিপাবলিকানদের হাতে নেই। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প বিলটিকে তার রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রে স্থান দিয়েছেন। নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগেই বিলটি পাস করাতে তিনি আইনপ্রণেতাদের তাগিদ দিচ্ছেন। এই বিল অনুযায়ী ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধনের সময় আমেরিকানদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দাখিল করতে হবে এবং ভোট দেওয়ার সময় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
ভোটারদের পাসপোর্ট বা জন্ম সনদের মতো নথিপত্র এবং ছবিসহ বৈধ পরিচয়পত্র দিয়ে নিজেদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। বিলের সমর্থকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ নির্বাচনের স্বচ্ছতার ওপর জনগণের আস্থা বাড়াবে। অন্যদিকে সমালোচকদের যুক্তি হলো, এর ফলে লাখ লাখ যোগ্য ভোটার ক্ষতিগ্রস্ত হবেন যাদের কাছে সহজে এসব নথি থাকে না। ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, কঠোর ভোটদান বিধিমালা না হলে নির্বাচনে জালিয়াতি ঠেকানো সম্ভব নয়।
সোমবার হাউস রিপাবলিকানদের এক সম্মেলনে তিনি জানান, এই আইন মধ্যবর্তী নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেবে। বিলটি পাস না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্য কোনো বিলে স্বাক্ষর করবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কঠোর ভোটদান বিধি চালু হলে ডেমোক্র্যাটপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ভোটার উপস্থিতি কমে যাবে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক সুবিধা এনে দেবে।
এস এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬









