সিরাজগঞ্জ

তাড়াশে একই পরিবারের তিন লাইসেন্সে টিসিবির পণ্য তুলে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ, ১৩ মার্চ – সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য কালোবাজারে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মেসার্স রুখসানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবু হাসানের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে আব্দুল খালেক নামের এক ভুক্তভোগী ব্যক্তি সহকারী পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায় যে, তাড়াশ উপজেলার জাহাঙ্গীরগাঁতী গ্রামের বাসিন্দা আবু হাসান নিজের নামের পাশাপাশি ছেলে মাসুদ রানার নামে মেসার্স আব্দুল্লাহ ট্রেডার্স এবং মেয়ের নামে রুপসা ট্রেডার্স হিসেবে আরও দুটি লাইসেন্স অনুমোদন করিয়ে নেন।

টিসিবির ডিলারশিপ লাইসেন্স পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গুদামঘর থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে এসবের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত আবু হাসান একই পরিবারের তিনটি লাইসেন্সের সম্পূর্ণ মালামাল নিজের বাড়িতে এনে অবৈধভাবে মজুত করে রাখেন।

এরপর তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে প্রভাবিত করে নিজের ইচ্ছামতো কিছু মালামাল বিতরণ করতেন এবং অবশিষ্ট বিপুল পরিমাণ পণ্য কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ৯ মার্চ স্থানীয় জাহাঙ্গীরগাঁতি বাজারে মেসার্স রুখসানা ট্রেডার্সের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির নির্ধারিত দিন থাকলেও সেদিন কোনো পণ্য বিতরণ করা হয়নি। পরবর্তীতে অভিযোগকারীসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানতে পারেন যে, পার্শ্ববর্তী রায়গঞ্জ উপজেলার পুল্লাগ্রামের একটি বাড়িতে আবু হাসান টিসিবির মালামাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন।

এই গোপন খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানা পুলিশকে অবগত করা হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত মালামাল জব্দ করে। তবে এই ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আবু হাসান কৌশলে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগকারী আব্দুল খালেক গণমাধ্যমকে জানান যে, অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে আবু হাসান তাকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানোর হুমকিসহ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। আব্দুল খালেক একই পরিবারের নামে থাকা তিনটি লাইসেন্স বাতিল করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মেসার্স রুখসানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবু হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগকে নিছক চক্রান্ত বলে দাবি করেন। তবে জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।

সার্বিক বিষয়ে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মো. সাদ্দাম হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন যে, তিনি এখনও লিখিত অভিযোগ হাতে পাননি।

তবে মুঠোফোনে এই বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language