জাতীয়

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গণপরিবহন ও যাত্রীদের জন্য ডিএমপির বিশেষ নির্দেশনা

ঢাকা, ১৩ মার্চ – আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ বা ডিএমপি বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বৃহস্পতিবার ডিএমপির পক্ষ থেকে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে গণপরিবহন মালিক, শ্রমিক, সাধারণ যাত্রী এবং পথচারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্য দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তঃজেলা বাসগুলোকে টার্মিনালের ভেতর থেকে যাত্রী উঠিয়ে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে। কোনোভাবেই টার্মিনালের বাইরে বা রাস্তায় বাস দাঁড় করানো যাবে না।

অনুমোদিত কাউন্টার ছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো বা নামানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার রাস্তায় বাস পার্কিং করা যাবে না। বিআরটিসির বাসগুলো নিজ নিজ ডিপো থেকে বের হয়ে নির্ধারিত জেলায় যাবে, কোনোভাবেই ঢাকা মহানগরী পার হতে পারবে না। যেমন কল্যাণপুর ও গাবতলী ডিপোর বাস সরাসরি রংপুর এবং রাজশাহী বিভাগের দিকে যাবে। একইভাবে ফুলবাড়িয়া ও কমলাপুর ডিপো থেকে বাস সরাসরি চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের দিকে যাবে। বাস ছাড়ার নির্ধারিত শিডিউল মানতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা যাবে না। যাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ ও হয়রানি থেকে বিরত থাকতে হবে।

একটি আসনের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা এবং বাসের ছাদে যাত্রী বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া চালকদের গতিসীমা মেনে চলতে হবে। বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, সরু ব্রিজ ও রাস্তার বাঁকে ওভারটেকিং করা যাবে না। নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করে, ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির হালনাগাদ কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং উচ্চস্বরে গান বাজানো যাবে না। উল্টো পথে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

মালিকদের অবশ্যই চালকের বৈধ লাইসেন্স যাচাই করে নিয়োগ দিতে হবে। একজন চালককে একটানা ৫ ঘণ্টা এবং দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না। ফিটনেসবিহীন, লক্কড়ঝক্কড় ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী গাড়ি রাস্তায় নামানো সম্পূর্ণ নিষেধ। অন্যদিকে, সাধারণ যাত্রী এবং পথচারীদের জন্য দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে ওঠা যাবে না। নির্ধারিত টার্মিনাল বা কাউন্টারে গিয়ে বাসে উঠতে হবে। ভ্রমণের সময় অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নিজেদের মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে। বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই কাউন্টারে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাস্তা পারাপারের সময় ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করতে হবে। চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা এবং পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী হয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। দৌড়ে বা মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সবসময় ফুটপাত ব্যবহার করে চলাচল করতে হবে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ করা হয়েছে। ঈদের সময় প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়েন এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর যাতায়াত আনন্দময় ও নিরাপদ করতেই ডিএমপি এই উদ্যোগ নিয়েছে।

এস এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language