আইন-আদালত

ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভয়াল স্মৃতি তুলে ধরলেন গুলিবিদ্ধ জুহামুল

ঢাকা, ১২ মার্চ – চোখের সামনেই প্রাণ হারাতে দেখেছেন তিনজনকে। আহত হয়ে অনেকের কাতরাতে থাকার সেই বিভীষিকাময় দৃশ্যের বর্ণনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেছেন আবু জুহামুল ইসলাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি নিজের শরীরের ক্ষতচিহ্নও প্রদর্শন করেন।

১২ মার্চ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জুহামুল সাক্ষ্য দেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তার এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে তিনি জানান, গত ১৮ জুলাই মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারশেল এবং গুলি নিক্ষেপ করে। পরদিন জুমার নামাজের পর বিজিবি, পুলিশ ও র‍্যাবের হেলিকপ্টার থেকে গুলি এবং টিয়ারশেল ছোড়া হয়। ওই দিন চোখের সামনে তিনজনকে নিহত হতে দেখেন তিনি।

এরপর ২০ জুলাই দুপুরে মিরপুর ১০ নম্বর চত্বরে একটি গুলির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। গুলিটি তার বুকের বাম দিকে বিদ্ধ হয়ে হাড় ভেঙে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। আহত অবস্থায় কাজিপাড়ার একটি ক্লিনিক হয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যান তিনি। সেখানে লাশের সারি ও অসংখ্য আহত মানুষের ভিড় দেখতে পান। পরে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে তার অস্ত্রোপচার হয়।

২১ জুলাই সকালে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সদস্যরা হাসপাতালে ঢুকে গালিগালাজ করে এবং মিথ্যা মামলা দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ৭ আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা জুহামুল এই বর্বরোচিত ঘটনার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক এবং সালমান এফ রহমানসহ জড়িতদের বিচার দাবি করেন।

এনএন/ ১২ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language