উত্তর আমেরিকা

ইরান যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ

ওয়াশিংটন, ১২ মার্চ – ইরানজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ট্রিপল এ এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম ৩.৬০ ডলারে পৌঁছেছে। গত এক সপ্তাহে জ্বালানির দাম ৩৫ সেন্ট এবং গত এক মাসে ৬৫ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালের মার্চ মাসে ইউক্রেন আক্রমণের পর এটিই সর্বোচ্চ মাসিক ও সাপ্তাহিক বৃদ্ধির রেকর্ড।

গত এক মাসে দেশটিতে জ্বালানির দাম প্রায় ২২ শতাংশ বেড়েছে যা গত ২১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে যুদ্ধাবস্থার কারণে এই পথে সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতের বিভিন্ন তেল স্থাপনায় ইরানের উপর্যুপরি পাল্টা হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হওয়ার আভাস দিলে মঙ্গলবার তেলের বাজারে সাময়িক দরপতন ঘটে।

কিন্তু বুধবার ও বৃহস্পতিবার প্রণালির কাছাকাছি জাহাজে নতুন করে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে তেলের দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়। আজকের শুরুর দিকের লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির এই বাড়তি খরচের বোঝা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে দাম কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলেও পাইকারি বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকায় সামনে আরও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।

এস এম/ ১২ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language