জুলাই সনদ ভেঙে স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে বিএনপি: সারজিস আলম

পঞ্চগড়, ১২ মার্চ – জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন যে জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে বিএনপি তাদের যাত্রা শুরু করেছে যা দেশবাসীর কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটরিয়াম চত্বরে কিশোর কণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। সারজিস আলম বলেন জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদের স্পিকার সরকারি দলের হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সেই পদে বিএনপির কায়সার কামালকে বসানো হয়েছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়িয়েছেন বিগত স্বৈরাচারী সরকারের রাষ্ট্রপতি। এর মাধ্যমে বিএনপি মূলত স্বৈরাচারী সরকারের ধারাবাহিকতায় তাদের কার্যক্রম শুরু করল যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি আরও বলেন দেশের জনগণ এবং বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষও গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।
এই রায়ের মূল শর্ত ছিল জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পন্ন করা। এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজকে পাশ কাটিয়ে বর্তমান সরকার যদি জনগণের বিপক্ষে গিয়ে রাজনীতি করে টিকে থাকতে চায় তবে তা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। কোনো দল যদি শুধুমাত্র নিজেদের দলীয় স্বার্থ হাসিল করতে চায় এবং পুনরায় স্বৈরাচারের পথে হাঁটে তবে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে বিরোধী দল তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে এই নেতা জানান বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও পরবর্তীতে কিছু নির্ধারিত আসনে পরিকল্পিতভাবে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। তা না হলে দুইশ বারোটি আসনের বিপরীতে আটষট্টিটি আসনের এমন পরিসংখ্যান তৈরি হতো না।
জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীরা সাংবাদিকের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন এবং ভোট গণনায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তারা অর্থের বিনিময়ে পোলিং এজেন্টদের কিনে নিয়েছেন এবং কিছু স্থানে প্রশাসনকেও প্রভাবিত করেছেন।
এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন কোনো অনিয়ম বা ভোট কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি। একাদশ দলীয় জোট হিসেবে তারা স্থানীয় নির্বাচনে একক বা জোটগতভাবে অংশ নিলেও কোনো ধরনের কারচুপি মেনে নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
এর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত বাতিল করার সিদ্ধান্তে বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেন সারজিস আলম।
এ এম/ ১২ মার্চ ২০২৬









