মধ্যপ্রাচ্য

উপসাগরীয় দেশগুলোতে তীব্র অস্ত্র সংকট, মার্কিন সহায়তার অভাবে ঝুঁকি বাড়ছে

তেহরান, ১২ মার্চ – ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো বর্তমানে এক চরম সামরিক সংকটের মুখে পড়েছে। আকাশপথে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এতটাই কমে গেছে যে দেশগুলো এখন বাধ্য হয়ে লক্ষ্যবস্তু বাছাই করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করছে। ওয়াশিংটনের ট্রাম্প প্রশাসন বৈশ্বিক অস্ত্র সংকটের কারণ দেখিয়ে মিত্র দেশগুলোর পুনঃসরবরাহের আবেদনে সাড়া দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আইয়ের এক বিশেষ অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের অস্ত্রভাণ্ডার পূর্ণ করার আবেদন জানালেও মার্কিন প্রশাসন তাতে খুব একটা সাড়া দেয়নি।

পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক মাসে উৎপাদিত সমরাস্ত্রের তুলনায় মাত্র কয়েক দিনে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। গত ১ মার্চ দুবাইয়ের আকাশে ইরানি প্রজেক্টাইল ধ্বংসের দৃশ্য এই যুদ্ধের তীব্রতাকেই স্পষ্ট করে। সরকারি তথ্যমতে, যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত ২৪১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩৮৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। অপরদিকে বাহরাইন ১০৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৭৭টি ড্রোন ঠেকানোর দাবি করেছে। সাধারণত একটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে অন্তত দুটি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ফলে দেশগুলোর অস্ত্রাগার খুব দ্রুত শূন্য হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এই দেশগুলো থাড এবং প্যাট্রিয়টের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে বছরে মাত্র ৬০০টির মতো প্যাট্রিয়ট প্যাক থ্রি ইন্টারসেপ্টর তৈরি হয়।

এই সংকটের প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর রেশ ছড়িয়ে পড়েছে পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত। চীনের সাথে ভূরাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য মোতায়েন করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এখন বাধ্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং ইতোমধ্যেই সিউলের আপত্তি সত্ত্বেও সেখান থেকে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো রাডার ঘাঁটিকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা বাড়ছে। সেখানে পুরোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে জার্মানি থেকে আনা উন্নত প্যাট্রিয়ট সিস্টেম মোতায়েন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা নির্ভরশীলতা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কি না তা নিয়ে নতুন করে ভূরাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এস এম/ ১২ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language