ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ১৪০ মার্কিন সেনা আহত, হাসপাতালে ৩৮

ওয়াশিংটন, ১২ মার্চ – গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর গত বারো দিনে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৩৮ জন মার্কিন সেনা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই সেনারা ব্রেইন ট্রমা, আগুনে পোড়া এবং শার্পনেলের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক যে তার একটি পা কেটে ফেলতে হতে পারে। আহত ৩৮ জনের মধ্যে ১৩ জনকে ইতোমধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী এদের মধ্যে একজন টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রুক আর্মি মেডিকেল সেন্টারে এবং ১২ জন ওয়াশিংটনের কাছে অবস্থিত ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন। বাকি ২৫ জন জার্মানির ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এই ৩৮ সেনার মধ্যে অন্তত ৫ জনের অবস্থা গুরুতর। মধ্যপ্রাচ্যে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন আর্মি সেন্ট্রালের ফরোয়ার্ড সদরদপ্তর ক্যাম্প আরিফজান এবং ইরাক সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি অন্যতম। রুক্ষ ও বিচ্ছিন্ন পরিবেশের কারণে এই বিমানঘাঁটি দ্য রক নামে বেশি পরিচিত। এ ছাড়া ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্প বুহেরিং বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনা ইউনিটগুলোর ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ঘাঁটির পাশাপাশি কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও ইরান থেকে মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু হামলা রুখে দিলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র সিন পার্নেল সিবিএসকে জানিয়েছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মোট প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
এনএন/ ১২ মার্চ ২০২৬









