তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়ানোর হুঁশিয়ারি ইরানের, উপসাগরে জাহাজে হামলা অব্যাহত

তেহরান, ১১ মার্চ – তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছতে পারে বলে বিশ্বকে সতর্ক করেছে ইরানের সামরিক কমান্ড। অবরুদ্ধ পারস্য উপসাগরে আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর তেহরানের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পেন্টাগন তাদের সাম্প্রতিক হামলাকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে তীব্র বলে আখ্যা দিলেও ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ১৭টি মার্কিন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে তেহরান নিজেদের শক্তিমত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত করার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম দ্রুতগতিতে বাড়লেও বর্তমানে তা ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশা করছেন দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই সংঘাত দ্রুত অবসানের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়ে থাকে যা বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।১৯৭০ সালের তেল সংকটের পর জ্বালানি সরবরাহে এটিকে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেন তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার হওয়ার জন্য তাদের প্রস্তুত থাকা উচিত। কারণ এই দাম আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল যা তারা নষ্ট করেছে।
উপসাগরে প্রজেক্টাইলের আঘাতে থাইল্যান্ড জাপান ও মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪টি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি তাদের কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সুপারিশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান কোনো সময়সীমা ছাড়াই চলবে। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির সামরিক শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা নিঃশেষ করে দেওয়া।
এনএন/ ১১ মার্চ ২০২৬









