যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর কর বসানোর চিন্তা ইরানের

তেহরান, ১১ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের তেলখাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে ইরানের ভেতরে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ওয়ার্ল্ড স্টাডিজের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফোয়াদ ইজাদি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি জানান ইরানি কর্মকর্তারা বর্তমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার নানা কৌশল নিয়ে কাজ করছেন।
ফোয়াদ ইজাদির মতে ইরানের ভেতরে মূলত কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো একটি আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা। এই প্রস্তাব অনুযায়ী যুদ্ধের কারণে যে ক্ষতি হবে তার জন্য দায়ী দেশগুলোকে ওই তহবিলে অর্থ প্রদান করতে বাধ্য করা হবে। এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত প্রস্তাব হচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পানিপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন দেশের জাহাজগুলোর ওপর কর আরোপ করা।
ইজাদি স্পষ্ট করে জানান যে ইরান এককভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং অন্য দেশগুলো বাধাহীনভাবে বাণিজ্যিক সুবিধা ভোগ করবে এমন পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই জলপথে ইরান যদি সত্যিই নতুন কোনো কর বা বিধিনিষেধ আরোপ করে তবে তা বিশ্ব বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এস এম/ ১১ মার্চ ২০২৬









