ময়মনসিংহ

ভালুকায় বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

ময়মনসিংহ, ১১ মার্চ – বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবিতে ময়মনসিংহের ভালুকায় ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বুধবার সকালে পৌরসভার বাঘরা এলাকায় অবস্থিত শেফার্ড গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জিন্স লিমিটেডের শ্রমিকরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পাশের মহাসড়কে অবস্থান নেন। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। জানা গেছে, জিন্স লিমিটেডে ছয় শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং আসন্ন ঈদের বোনাস এখনো পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

অবরোধের খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অনড় থাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পরবর্তীতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের সুস্পষ্ট আশ্বাস পেলে প্রায় তিন ঘণ্টা পর শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে যান এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার তাদের বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা প্রদান করেনি এবং কবে দেওয়া হবে সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানায়নি। কারখানার ব্যবস্থাপক বুধবার বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও এদিন তিনি কারখানায় উপস্থিত ছিলেন না।

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণেই তারা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। এর আগেও তাদের পাওনা আদায়ের জন্য আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়েছিল। শিল্প পুলিশের এসপি মো. ফরহাদ হোসেন খান জানান, জিন্স লিমিটেডের শ্রমিকরা নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন।

পরবর্তীতে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে তারা অবরোধ তুলে নেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের ওপর কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে জিন্স লিমিটেড কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ এম/ ১১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language