ইরানে হামলার চরম মূল্য পুরো বিশ্বকে দিতে হবে: গোলামজাদে

তেহরান, ১১ মার্চ – গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। সংঘাত শুরুর আগেই ইরান একাধিকবার সতর্ক করেছিল যে তাদের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর চরম মূল্য পুরো বিশ্বকে চোকাতে হবে। ইরানের থিংক ট্যাংক ডিপ্লোহাউসের পরিচালক হামিদ রেজা গোলামজাদে আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই একই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আক্রান্ত হলে ইরানের আত্মরক্ষার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল যে ইরানের ওপর যেকোনো হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে এবং এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তেহরান থেকে যুক্ত হয়ে গোলামজাদে আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে ইরানের এই পূর্ব সতর্কবার্তাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ইরানে হামলার কারণে শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোই নয় বরং বিশ্বের অন্যান্য অংশও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সেগুলো ইরানের ওপর হামলার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এমতাবস্থায় আত্মরক্ষার স্বার্থে ইরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য। গোলামজাদে জানান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। তার মতে ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থই হলো সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা করা। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন ইরানের নিরাপত্তা মানেই বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা। এই চরম বাস্তবতাটি পুরো বিশ্বকে উপলব্ধি করতে হবে। সবশেষে তিনি পুনরায় সতর্ক করে বলেন ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির ভোগান্তি সারা বিশ্বকে সহ্য করতে হবে।
এস এম/ ১১ মার্চ ২০২৬









