জ্বালানি সাশ্রয়ে লিফট বাদ দিয়ে সিঁড়ি ব্যবহারের নির্দেশ থাইল্যান্ড সরকারের

ব্যাংকক, ১১ মার্চ – জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় শক্তি সাশ্রয়ে একাধিক জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে থাইল্যান্ড সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সরকারি কর্মকর্তাদের জ্বালানি ব্যবহারে সংযম দেখাতে এবং অফিস কার্যক্রমে নতুন কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের লিফটের ব্যবহার কমিয়ে সিঁড়ি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
অধিকাংশ সরকারি কর্মচারীকে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও হাসপাতাল বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সরাসরি জনসেবামূলক কর্মকর্তাদের জন্য এটি প্রযোজ্য হবে না। সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে বেশ কিছু নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অফিসে অপ্রয়োজনীয় আলো ও বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণ করা। এছাড়া কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক পোশাকের বদলে হালকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ওপর চাপ কমে। থাইল্যান্ডের জ্বালানিমন্ত্রী আত্তাপোল রের্কপিবুন জানিয়েছেন যে বর্তমানে দেশটির কাছে প্রায় ৯৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে।
সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অতিরিক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশটির এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী থাইল্যান্ডের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৮ শতাংশ পূরণ হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। এর একটি বড় অংশ আসে থাইল্যান্ড উপসাগরে দেশের নিজস্ব উৎপাদন থেকে। অবশিষ্ট গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করা হয় যার মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ আসে প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাই থাইল্যান্ড সরকারও চাহিদা কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করছে।
এস এম/ ১১ মার্চ ২০২৬









