হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত: পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়বেন ভোক্তারা

তেহরান, ১১ মার্চ – ইরানে চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর চূড়ান্ত প্রভাব সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি মার্স্ক এর প্রধান নির্বাহী ভিনসেন্ট ক্লার্ক।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।
ডেনমার্কভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানান যে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য গ্রাহকদের সঙ্গে তাদের আগে থেকেই চুক্তি থাকে। ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির বর্তমান চাপ সরাসরি গ্রাহক এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ঘাড়ে গিয়ে পড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথগুলো সচল করার লক্ষ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানকে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ভিনসেন্ট ক্লার্কের মতে চলমান উত্তেজনার কারণে বর্তমানে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি হয়ে পরিবাহিত হতো। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলার হুমকির কারণে এই পথটি এখন প্রায় বন্ধ।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ নৌবাহিনীর পাহারায় জাহাজ চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে মার্স্ক প্রধান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি তার কর্মীদের জীবনের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নন।
ক্লার্ক বলেন যে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো কর্মীদের নিরাপত্তা এবং জাহাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। যতক্ষণ পর্যন্ত ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকবে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া না যাবে, ততক্ষণ সহকর্মী ও জাহাজগুলোকে এমন বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
অন্যদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম। অভিযান পরিচালনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে তারা। প্রকাশিত সেই ভিডিওতে দেখা যায় যে সাগরে থাকা জাহাজগুলোতে একের পর এক শক্তিশালী হামলা চালানো হচ্ছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ১০টি নিষ্ক্রিয় নৌকা লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। তিনি এর আগে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন যে ইরানের এসব জাহাজের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বড় ধরনের হামলার খবর প্রকাশ্যে আসে।
এনএন/ ১১ মার্চ ২০২৬









