যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া: কড়া হুঁশিয়ারি কিম ইয়ো জংয়ের

সিউল, ১০ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই পূর্ব এশিয়া নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াশিংটন ও সিউলের বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নষ্ট করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেত্রী এবং কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং।
মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই সামরিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেন।
কিম ইয়ো জং জানান, তাদের রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ শত্রুপক্ষের এই শক্তি বৃদ্ধি অকল্পনীয়ভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শত্রুদের কখনোই উত্তর কোরিয়ার ধৈর্য, ইচ্ছাশক্তি এবং সক্ষমতাকে পরীক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই ধরনের উসকানিমূলক কাজ করছে, পিয়ংইয়ং তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া দশ দিনব্যাপী এই যৌথ সামরিক মহড়াটির নাম দেওয়া হয়েছে ফ্রিডম শিল্ড। এতে অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় আঠারো হাজার সেনাসদস্য।
যুক্তরাষ্ট্রের কোরিয়াভিত্তিক বাহিনীর দাবি, এই মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো সমন্বিত অপারেশনাল পরিবেশ উন্নত করা এবং জোটের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।
অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া বরাবরই এই ধরনের মহড়াকে তাদের দেশে হামলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ফ্রিডম শিল্ড মহড়ায় গত বছরের তুলনায় মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিম ইয়ো জংয়ের মঙ্গলবারের মন্তব্য উত্তর কোরিয়ার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক বক্তব্যের তুলনায় কিছুটা সংযত ছিল। ওই বিবৃতিতে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরুতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ঘোষণা করেছিলেন, তিনি আর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পুনর্মিলনের চেষ্টা করবেন না। এর ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
এনএন/ ১০ মার্চ ২০২৬









