দক্ষিণ এশিয়া

নেপালে ইতিহাস গড়ছে বালেন্দ্র শাহর দল, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে আরএসপি

কাঠমান্ডু, ১০ মার্চ – নেপালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা এখনো চলছে।

তবে প্রাথমিক ফলাফলেই স্পষ্ট যে কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে একটি একক দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে। সাবেক র‍্যাপার ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বা আরএসপি দেশটির পার্লামেন্টে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে রয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নেপাল নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ১৬৫টি আসনের সরাসরি নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর আরএসপি এরই মধ্যে ১২৫ আসনে জয়লাভ করেছে। সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে ১১০ আসনের মধ্যে দলটি অন্তত ৫৮ আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ফলাফল বজায় থাকলে নেপালের ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে আরএসপি মাত্র একটি আসন দূরে থাকবে।

নেপালের রাজনীতিতে যেখানে জোট সরকারই সাধারণ নিয়ম ছিল সেখানে একক দলের এই জয় ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিশাল পরাজয়। নিজের নির্বাচনী এলাকায় বালেন্দ্র শাহর কাছে বিপুল ব্যবধানে হেরেছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে ৭৪ বছর বয়সী ওলি ও তার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং বেকারত্বের প্রতিবাদে যে গণবিক্ষোভ হয়েছিল এটি তারই ফল। বালেন্দ্র শাহ যদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তবে তিনি হবেন নেপালের ইতিহাসের কনিষ্ঠতম সরকারপ্রধান। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমিশ রাজ মুলমি জানিয়েছেন নেপালের রাজনীতির চাকা এখন পুরোপুরি তরুণ প্রজন্মের দিকে ঘুরে গেছে।

নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে সব ভোট গণনা শেষ হবে। তবে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফলের জন্য আরও অন্তত চারদিন অপেক্ষা করতে হবে। নেপালের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে ব্যালট বাক্স সংগ্রহ করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে হেলিকপ্টারে করে বা পায়ে হেঁটে কয়েকদিন ধরে ব্যালট বাক্স কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়।

প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে হাতে কলমে ভোট গণনার কারণেও এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ হয়। যদিও অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের ফলাফলের গতি বেশ দ্রুত।

এবারের নির্বাচনে নেপালে প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। নেপালি কংগ্রেস সরাসরি ভোটে মাত্র ১৮টি আসন পেয়ে আরএসপির পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

ওলির দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ইউএমএল গত নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেলেও এবার তারা মাত্র আটটি আসন জিতেছে। এছাড়া সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ডের দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল জিতেছে সাতটি আসন।

এনএন/ ১০ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language