ইরানের ওপর আজ সবচেয়ে তীব্র হামলার হুমকি পেন্টাগনের

ওয়াশিংটন, ১০ মার্চ – যুদ্ধ শুরুর দশম দিনে ইরানের ওপর সবচেয়ে তীব্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
মঙ্গলবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান তাদের সবচেয়ে কম সংখ্যক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুদ্ধে অংশ নিয়ে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
সংঘাতের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান যৌথ বাহিনী বর্তমানে তিনটি প্রধান লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। এগুলো হলো মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা দেশটির নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দুর্বল করা এবং আগামী কয়েক বছর ইরান যেন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
জেনারেল কেইন আরও উল্লেখ করেন যুদ্ধের প্রথম দিকের তুলনায় বর্তমানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রবণতা প্রায় নব্বই শতাংশ কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন মূলত ইরানের মাইন স্থাপনকারী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে আঘাত হানছে। এই অভিযানকে অত্যন্ত কঠিন ও নিরলস কাজ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি যৌথ বাহিনীর তৎপরতার প্রশংসা করেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দৃঢ়তার সাথে বলেন এই সংঘাতের চূড়ান্ত ফলাফল আমেরিকার পক্ষেই যাবে। যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানের পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলিং মেনে নেবে না।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে তবে তাদের ওপর বিশ গুণ বেশি শক্তিতে আঘাত হানা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীও এই একই বার্তার পুনরাবৃত্তি করেছেন।
ইরানে বেসামরিক প্রাণহানি কমানোর বিষয়ে পেন্টাগনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হেগসেথ জানান বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অধিক সতর্কতা অন্য কোনো দেশ অবলম্বন করে না। অভিযোগ উঠলে তারা অবশ্যই তদন্ত করবেন বলেও আশ্বাস দেন।
ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে যে দাবি করেছে তার জবাবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান সম্মুখ সমরে থাকা সেনাদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের রসদ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার সমালোচনা করে তিনি বলেন এটি তাদের চরম হঠকারিতা এবং বড় ধরনের ভুল। এই আচরণের ফলে প্রতিবেশী দেশগুলো উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে।
হেগসেথ ইরানের নতুন নেতার প্রতি পরামর্শ দেন যেন তিনি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা থেকে বিরত থাকেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি মেনে চলেন। তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন বলে যে গুঞ্জন রয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
যুদ্ধটি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না তা নির্ধারণের বিষয়টি সরাসরি প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
এনএন/ ১০ মার্চ ২০২৬









