জাতীয়

আবাসন খাত সচল রাখতে ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল চায় রিহ্যাব

ঢাকা, ১০ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের আবাসন খাতের নির্মাণ কার্যক্রম সচল রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তিন হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল সহায়তা চেয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সংক্ষেপে রিহ্যাব। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য গৃহঋণের সুদের হার এক অঙ্কে বা সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠনটি। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন রিহ্যাবের সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

তিনি জানান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে তার প্রভাব দেশের আবাসন খাতেও দৃশ্যমান হচ্ছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে আবাসন খাতকে সক্রিয় রাখতে একটি বিশেষ তহবিলের একান্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিলে তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে রিহ্যাব সভাপতি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা হচ্ছে বাসস্থান কিন্তু বর্তমানে গৃহঋণের উচ্চ সুদের কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সুদের হার এক অঙ্কের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়াও বৈঠকে পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রকল্পগুলোতে বিশেষ অর্থায়নের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আবাসন প্রকল্পগুলোতে কম সুদে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। রিহ্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশের অর্থনীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে আবাসন খাত। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আড়াইশোর বেশি শিল্প খাত জড়িত রয়েছে। বর্তমানে এই খাতটিকে অনুৎপাদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এখানে প্রায় চল্লিশ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ নেই। তাই আবাসনকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে রিহ্যাব। সংশ্লিষ্টদের মতে এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর একটি বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এস এম/ ১০ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language