মধ্যপ্রাচ্য

উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠাল আজারবাইজান

তেহরান, ১০ মার্চ – ইরানি ড্রোন হামলার অভিযোগ কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ককেশাস অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে আজারবাইজান। মঙ্গলবার এই সহায়তা পাঠানো হয়, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত আজারবাইজান তেহরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি ছিল, একটি ইরানি ড্রোন আজারবাইজানের একটি বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে এবং একটি স্কুলের কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়েছে। এর ফলে ইরান সীমান্তবর্তী নাখিচেভান অঞ্চলে চারজন আহত হন।

এই ঘটনার পর আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ সশস্ত্র বাহিনীকে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয় এবং ইরান থেকে আজারবাইজানের কূটনীতিকদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী ড্রোন হামলার এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।

তারা উল্টো আজারবাইজানের মিত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনে। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষণ দেখা যায়। আজারবাইজানের জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত আটই মার্চ দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে একটি টেলিফোন আলাপ হয়।

এরপরই ইরানে কয়েক টন খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট আলিয়েভের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল, রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান তাকে ফোন করে ড্রোন হামলার ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন যে এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন।

পাশাপাশি দুই নেতা তাদের যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন। এতে স্পষ্ট হয় যে কোনো দেশই বর্তমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে চায় না। উল্লেখ্য, ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আজারবাইজানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ ইসরায়েল গুপ্তচরবৃত্তি এবং সম্ভাব্য হামলার জন্য আজারবাইজানের মাটি ব্যবহার করছে।

ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালানোর পর আজারবাইজান তেহরানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া ইরানে বসবাসকারী প্রায় এক কোটি জাতিগত আজারিদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা নিয়েও তেহরানের দীর্ঘদিনের গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

এ এম/ ১০ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language