রংপুরে রমজানের বাজারে মিশ্র চিত্র: মুরগির দাম বাড়লেও কমেছে সবজির দাম

রংপুর, ১০ মার্চ – পবিত্র রমজান মাস ঘিরে রংপুরের নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে পোলট্রি মুরগি ও ডিমের দাম বৃদ্ধি পেলেও কমেছে বেশ কিছু সবজি, কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পোলট্রি মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড জাতের মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩০০ থেকে ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি মুরগির দাম অপরিবর্তিত থেকে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাশাপাশি ডিমের দাম কিছুটা বেড়ে খুচরা বাজারে প্রতি হালি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে নির্ধারিত কিছু দোকানে গত সপ্তাহের মতো প্রতি হালি ডিম ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রংপুর সিটি বাজারের মুরগি বিক্রেতা সাব্বির হোসেন জানান, রোজার আগে মুরগির বিক্রি কমে গেলেও এখন চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় দাম বাড়ছে।
ঈদ ঘনিয়ে এলে দাম আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রায় ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে।
গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম কমেছে। খুচরা বাজারে শসা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, লেবুর হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বেগুন ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম ১০০ টাকা থেকে কমে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে।
পেঁয়াজের দাম কমে বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টমেটো, গাজর, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, চালকুমড়া, পেঁপে, লাউসহ অন্যান্য সবজির দামও তুলনামূলক হাতের নাগালে রয়েছে। শাপলা বাজারের সবজি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম ও মামুন মিয়া বলেন, সবজির দাম কমায় বিক্রি বেড়েছে, যা ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক। মসলার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
দেশি আদা, রসুন ও আমদানি করা রসুনের দাম অপরিবর্তিত আছে। আলুর বাজারও স্বাভাবিক রয়েছে। বিভিন্ন জাতের আলু ১৬ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিভিন্ন জাতের ডালের দাম ১০০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে। খোলা চিনির দাম কিছুটা কমে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় নেমেছে। মাছের বাজারও মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। রুই, টেংরা, মৃগেল, পাঙ্গাশ, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন মাছ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে।
ধাপ বাজারের বিক্রেতা জয়নাল মিয়াও মুরগির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সরবরাহের ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন নিয়মিত বাজার তদারকি করছে।
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
এ এম/ ১০ মার্চ ২০২৬









