ফরিদপুরে কাপড় শুকানো নিয়ে দ্বন্দ্বে হত্যা: উত্তরা থেকে ৩ জন গ্রেপ্তার

ফরিদপুর, ১০ মার্চ – ফরিদপুর জেলা শহরে বাড়ির পাশের রাস্তায় কাপড় শুকানোর রশি টানানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে সংঘবদ্ধ হামলায় জুয়েল নামের পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন।
এই ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব। মঙ্গলবার ভোররাতে র্যাব দশ এবং র্যাব এক এর যৌথ অভিযানে ঢাকা মহানগরের উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন তেইশ বছর বয়সী মো. শাহনেওয়াজ, উনিশ বছর বয়সী মো. সিফাত শেখ এবং পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী মো. কামাল শেখ। তাদের সবার বাড়ি ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার গোয়ালচামট এলাকায়। র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত সাতাশ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের রাস্তায় কাপড় শুকানোর রশি টানানোকে কেন্দ্র করে জুয়েলের সঙ্গে প্রতিবেশী মনি বেগমের বাকবিতণ্ডা হয়।
প্রথমে বিষয়টি তর্কাতর্কির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এক পর্যায়ে দুই পরিবারের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়া শাহনেওয়াজসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুয়েলের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে গালিগালাজ শুরু করলে জুয়েল ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ জানান।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা জুয়েল ও তার ভাই সোহেলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তার ভাই সোহেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনার পরদিন আঠাশ ফেব্রুয়ারি নিহত জুয়েলের ভাই বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে যান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নজর এড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে শুরু করেন।
পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে পলাতক এই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব দশ এর সহকারী পরিচালক ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব নিয়মিতভাবে অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এ এম/ ১০ মার্চ ২০২৬









