ঝিনাইদহে পাম্প ভাঙচুর ও বাসে আগুন: ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা কারাগারে

ঝিনাইদহ, ১০ মার্চ – পেট্রল পাম্প ভাঙচুর এবং তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে বাস মালিকদের পক্ষে সাইফ নোমান এবং সৃজনী ফিলিং স্টেশনের পক্ষে শামসুল কবীর মিলন বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এরপর দুপুর ২টার দিকে গ্রেপ্তারকৃতদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোখলেছুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়।
বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কোর্ট পুলিশের কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্য ব্যক্তিরা হলেন জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান অন্তর, দ্য রেড জুলাইয়ের আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম এবং ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল।
জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় তাজ ফিলিং স্টেশনে পেট্রল নিতে গিয়ে পাম্প কর্মচারীদের হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে। ফারদিন হত্যার প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মী পেট্রল পাম্প ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। পরে তারা আরাপপুর এলাকার সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এরপর রাত সোয়া তিনটার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা রয়েল পরিবহনের দুটি এবং জে লাইন পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের আটক করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা বলেন, সব অপরাধই আইনের দৃষ্টিতে খারাপ এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নিরপরাধ কেউ থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং আইনের সঠিক প্রয়োগের দাবি জানান।
এনএন/ ১০ মার্চ ২০২৬









