মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য ইরান প্রস্তুত: কামাল খারাজি

তেহরান, ১০ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াতে ইরান সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের বৈদেশিক নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা কামাল খারাজি। একইসঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোতে চলমান হামলা অব্যাহত রাখার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ইরানের কৌশল হলো এই হামলার মাধ্যমে ওই দেশগুলোকে চাপে ফেলা, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে সংঘাত থেকে সরে আসতে বাধ্য করে। সম্প্রতি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

বর্তমানে কূটনৈতিক সমাধানের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপ বা পাল্টা আঘাতের মাধ্যমেই কেবল এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার দশম দিনে এসে ইরান সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করলেন কামাল খারাজি। তিনি বলেন, বর্তমানে কূটনীতির কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। কারণ ট্রাম্প প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন এবং কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন না।

এর আগে দুই দফা আলোচনার সময় ইরান বিষয়টি খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার টেবিলে থাকার সময়েই তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, যতদিন না পর্যন্ত অর্থনৈতিক চাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে অন্যান্য দেশগুলো হস্তক্ষেপ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা দেবে, ততদিন এই যুদ্ধ থামার কোনো সম্ভাবনা নেই।

উপসাগরীয় দেশগুলোসহ অন্যান্য রাষ্ট্রেরও যুদ্ধ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, এই সংঘাত অন্যদের ওপরও ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি ঘাটতির মতো সংকট তৈরি করছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এই চাপ আরও বাড়বে এবং তখন অন্যদের সরাসরি হস্তক্ষেপ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে আসছে।

তেহরানের দাবি, তারা মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে বাস্তবে ওইসব দেশের আবাসিক ভবন এবং বিমানবন্দরগুলোও বারবার এই হামলার শিকার হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এনএন/ ১০ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language