ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের সহায়তা চাইল ১১ দেশ

কিয়েভ, ৯ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন হামলার প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যের নানা প্রান্তে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় কিয়েভের কাছে ১১টি দেশ সহায়তা চেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধরত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরানের ছোড়া ড্রোনগুলো কীভাবে সফলভাবে প্রতিহত করা যায়, সে বিষয়ে কিয়েভের পরামর্শ চেয়েছে ওই দেশগুলো।
জেলেনস্কি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ইরানের প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ, ইউরোপের কয়েকটি রাষ্ট্র এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ মোট ১১টি দেশের কাছ থেকে এমন অনুরোধ এসেছে।
মূলত প্রাণহানি এড়ানো, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং সামরিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ইউক্রেনের যে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, সে বিষয়ে দেশগুলোর ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ছোড়া ইরানের তৈরি বিভিন্ন মাত্রার ড্রোন হামলা রাতের বেলায় প্রতিহত করে আসছে ইউক্রেন। এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ইউক্রেন নিজেদের জন্য একটি বিশ্বমানের ড্রোন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলেছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ।
অন্যদিকে, ইরান থেকে তুরস্কের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে আঙ্কারা। সোমবার পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানি ওই ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ধ্বংসাবশেষ তুরস্কের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর গাজিয়ানটেপে এসে পড়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তুরস্কের ভূখণ্ডের ওপর আসা যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তুরস্ক সব সময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তবে দেশের ভূখণ্ড ও আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এবং কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই বিষয়ে তুরস্কের দেওয়া সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া সবার জন্যই মঙ্গলজনক হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এনএন/ ৯ মার্চ ২০২৬









