উপসাগরীয় দেশে হামলার জেরে ইরানের বিরুদ্ধে কাতারের বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ

দোহা, ৯ মার্চ – কাতার এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হামলার কারণে ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানি।
রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিযোগ করেন।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন যে কাতার এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো বারবার স্পষ্ট করেছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধে কোনোভাবেই যুক্ত নয়। তারা উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিবর্তে কূটনৈতিকভাবে এই সংকটের সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই কাতারসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে ইরান নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে হামলার কারণে ক্ষমা চাইলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনাকে বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা আখ্যা দিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন যে বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার মাধ্যমে ইরান মারাত্মক ভুল করছে যা সবকিছু ধ্বংস করে দিতে পারে।
তবে কাতার কোনো প্রতিশোধমূলক হামলায় যাবে না বরং সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় সংকট সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে স্থাপিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান মূলত এসব সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালালেও গত কয়েক দিনে সৌদি আরব, কুয়েত এবং কাতারের সরকারি ভবন ও জ্বালানি অবকাঠামোতেও বেশ কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে।
কাতারের রাজধানী দোহার কাছে অবস্থিত আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর রয়েছে যেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালিত হয় এবং সেখানে প্রায় দশ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
এনএন/ ৯ মার্চ ২০২৬









